1. khaircox10@gmail.com : admin :
এমপি, মেয়রের নাম ব্যবহার: পাহাড় ও সামাজিক বন ধ্বংস করে অবৈধ বসতি - coxsbazartimes24.com
শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
উত্তর ধূরুং ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবস্থান! পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর সাথে টুয়াক নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা কমিটি অনুমোদন কক্সবাজার চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রী’র উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন মেয়র মুজিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন টুয়াক নেতৃবৃন্দ ডিসি, এসপি ও পৌর মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাত করলেন টুয়াকের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ টুয়াকের সভাপতি আনোয়ার, সম্পাদক টিটু নির্বাচনের ইশতেহারে যা বললেন টুয়াকের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী টিটু ইউএসএআইডি এর অর্থায়নে ও রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল এর উদ্যোগে “কোভিড-১৯ প্যানডেমিক ‍সিচুয়েশন অব কক্সবাজার” শীর্ষক ওয়েবিনার দুদক কর্মকর্তার বদলি চ্যালেঞ্জ করা রিটকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

Ads

এমপি, মেয়রের নাম ব্যবহার: পাহাড় ও সামাজিক বন ধ্বংস করে অবৈধ বসতি

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ৯৪ বার ভিউ

কক্সবাজার টাইমস২৪#
কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল ইউনিয়নের তৈতৈয়া রফিকের ঘোনা এলাকায় বিশালাকারের বনভূমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় একটি চক্র। সামাজিক বনের অনেক গাছ ও পাহাড় কেটে ওই জমিতে তৈরি করেছে রোহিঙ্গা পল্লীর আদলে বসতি। দখলকৃত জমিতে ব্যক্তি মালিকানাও রয়েছে।

দখল নিশ্চিত করতে ‘রফিকের ঘোনা’ পাল্টে ফেলে রাতারাতি ‘মুজিবনগর’ নামকরণ করা হয়েছে। ওখানে টাঙিয়েছে সাইনবোর্ড। সামাজিক বনায়নের জমি দখল নিয়ে খোদ বন বিভাগের কর্তারা হতবাক।

খুরুশকুলের ইউপি সদস্য শেখ কামাল ও তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামাল উদ্দিন কামালসহ একটিচক্র বনের জমি দখলে নিয়েছে। দখলের পর সাইনবোর্ডে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানের ছবিও ব্যবহার করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার আশ্বাসে অনেক পরিবারের কাছ থেকে ৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে ওই চক্রটি। অন্যদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি আদালতের নির্দেশে আটকে যাওয়ায় কোন উপায় না পেয়ে বিচারক, আইনজীবীর পরিবারের কৃষিজমি দখলে নিয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ কামাল ও তার বড় ভাই কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে বিচারক-পরিবারের কৃষিজমি দখল করে ফেলা হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করেছি। আশা করছি, তারা ব্যবস্থা নেবেন।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, জোরপূর্বক যে জমি জবরদখল করা হয়েছে সেখানে ৫ জনের মালিকানা রয়েছে।

সেখানে একজন হলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বৃটিশ ভারতের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ফৌজ আর্মির সদস্য মৃত আবুল হোসেন। তিনি খুরুশকুলের তৈতৈয়া এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে চট্টগ্রাম আদালতে কর্মরত সিনিয়র সহকারী জজ কামাল উদ্দিন, হাইকোর্টের আইনজীবী বোরহান উদ্দীন রব্বানীসহ পাঁচজন ব্যক্তির পরিবার এসব কৃষিজমির মালিক।

ভুক্তভোগি পরিবারগুলো জানায়, ব্রিটিশ আমল থেকে খুরুশকুল-মৌজার বি.এস ৩৯৮নং খতিয়ানের বি.এস ৪৪৬৬ দাগের ৩.৪৪ একর জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা। কিন্তু গত ১১ এপ্রিল গভীর রাতে কোন কারণ ছাড়াই এমপি কমলের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ কামাল ও তার বড় ভাই কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সবজি ক্ষেত উপড়ে ফেলে দুই একরের বেশি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণ শুরু করে। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেন জমির মালিকরা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিচারক কামাল উদ্দিনের বাবা ও খুরুশকুল ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রফিক অভিযোগ করে বলেন, ‘সদর এসি-ল্যান্ডের উসকানিতে এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের নাম ভাঙিয়ে তাদের কৃষিজমি দখল করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।’ একই অভিযোগ শিক্ষানবিশ আইনজীবী বোরহান উদ্দীন রব্বানীসহ ভুক্তভোগিদের।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, এরইমধ্যে দখলদার চক্রটি কৃষিজমির সবজি ক্ষেত নষ্ট করে সেখানে ২৭টি ঘর নির্মাণ করেছে। আরও প্রায় ২৫টি ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখার আশায় প্রায় প্রতিটি ঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবির পাশাপাশি স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে অভিযুক্ত কামাল উদ্দীনের ছবিযুক্ত ব্যানার টাঙানো হয়েছে।

এ সময় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শেখ কামাল দলবলসহ সেখানে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, ‘জায়গাটি ব্রিটিশ আমল থেকেই রফিকুল ইসলামের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। আমরা এতদিন জানতাম জায়গাটি ‘জোত জায়গা’। কিন্তু সদর এসিল্যান্ড এটি খাসজমি বলে আমাদের নিশ্চিত করেছেন। এ কারণে এ জমিতে স্থানীয় গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যারা ঘর নির্মাণ করেছেন তাদের কারোরই ঘর নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না বলা পর্যন্ত তারা কেউ দখল ছেড়ে যাবে না। আর যদি রেজিস্ট্রি জায়গা প্রমাণ হয় তবেই সবাইকে আবার উচ্ছেদ করা হবে।’

সরকারি জমিতে দলবল নিয়ে অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণ করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, ‘গৃহহীনদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না।’ তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেছেন গৃহহীন দাবি করা ও ঘর নির্মাণ করে সেখানে অবস্থান করা নুরুল আলম, মো. সালামসহ অনেকেই।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দখল করাদের কেউ গৃহহীন নয়। বেশিরভাগ ওই এলাকার বাসিন্দাও নয়। তাদের ভাড়াটিয়া হিসেবে আনা হয়েছে। আবার কেউ কেউ জমি পাওয়ার আশায় টাকা দিয়ে সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু কিছু পরিবারকে কক্সবাজার শহর থেকে নিয়ে এসে খুরুশকুলের তৈতৈয়ায় রফিকের ঘোনা এলাকায় সামাজিক বনায়নের জায়গায় পুনর্বাসন করার কথা ছিল। কিন্তু বনায়নের উপকারভোগীদের পক্ষে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি সরকারি বনের জমি রক্ষায় হাইকোটে রিট আবেদন করলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন হাইকোট। পিটিশন নং ৪১৭০/২০২১। উচ্চ আদালতের এ নিষেধাজ্ঞার কারণে বনভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প আটকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন স্থানীয় ইউপি শেখ কামাল, তার বড় ভাই কামাল উদ্দীনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

জানতে চাইলে কথিত উদ্যোক্তা ও দখলদার হিসেবে অভিযুক্ত কামাল উদ্দীন কামাল বলেন, ‘এটি কারও ব্যক্তিগত জায়গা নয়। এসিল্যান্ড বলেছেন, এটি সরকারি জমি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ওই জমিতে গৃহহীনদের জন্য ঘর করা হচ্ছে।’ বনভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এরপরও অন্যের জমি দখল করে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ জন্য যদি জেল-ফাঁসি হয় আমার কোনো আপত্তি নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা নুরুল আবছার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি, ১৯৩৮ সাল থেকে ওই জমি মৃত আবুল হোসেনের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চিহ্নিত কিছু অপরাধীরা তা দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে।’

দখলদাররা ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতার নাম ব্যবহার করলেও তারা মূলত এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ইউপি সদস্য শেখ কামাল এমপি কমলকে ভুল বুঝিয়ে তার সমর্থন আদায় করেন। কমলের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েই অন্যের জমি দখল করেছেন তারা। এছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ান সেজন্য পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের কাছে তার নাম ভাঙিয়ে অন্যদের জমি জবরদখলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ‘তাদের আমি খেয়ে না খেয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি, এ কারণে আমার নাম ব্যবহারের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু সহযোগিতা করেছি বলে মাথায় উঠবে, এমনটা হতে পারে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শনিবার সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের ব্যবহৃত মুঠোফোন একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেন নি। এরপর অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করে খুদেবার্তা পাঠালেও সাড়া মেলেনি।তবে এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে সাংসদ কমল বলেছিলেন, ‘বিষয়টি কক্সবাজার সদর এসিল্যান্ড আমাকে অবগত করেছেন। আমার নাম বিক্রি করলে তো হবে না। মূলতো ওখানে কক্সবাজার শহরের কিছু মানুষকে পুনর্বাসন করার কথা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার কামাল ও স্থানীয়রা দাবি করতেছে, অর্ধেক জায়গা লোকাল ভূমিহীন মানুষগুলোকে দেওয়া হোক। এ কারণে তারা কিছু প্লাস্টিকের ঘর নির্মাণ করে ফেলেছে।’

বিচারক কামাল উদ্দীনের পরিবারের কৃষিজমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর ঘটনায় কেউ ভুক্তভোগি হলে তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তখন বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।’

কিন্তু বিচারক কামাল উদ্দিনের অভিযোগ, এমপি কমলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে অসংখ্যবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে খুদেবার্তা পাঠালেও এমপি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ।

খবরটি সবার মাঝে শেয়ার করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সব ধরনের নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2020 coxsbazartimes24
Theme Customized By CoxsMultimedia